অপছন্দের কথা জানালেন সাকিব

সংবাদ সারাক্ষণ
সম্পাদনাঃ ২১ অক্টোবর ২০১৮ - ০৯:০৬:০৬ এএম

বাংলাদেশের ক্রিকেট বর্তমানে পঞ্চপাণ্ডব নামে খ্যাত। ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও মূল দায়িত্ব নিতে হয় সেই পাঁচজনকে। বাকি ছয়জনকে দেখা হয় জুনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে টিম ম্যানেজমেন্ট পর্যন্ত সবাই তাদের কাছ থেকে আশানুরূপ পারফরম্যান্স পেতে চেষ্টা করছে। সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও মিলছে পরামর্শ। কিন্তু এই সিনিয়র-জুনিয়র পার্থক্যই পছন্দ নয় সাকিব আল হাসানের।

মাশরাফি-সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর কাঁধে ভর দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। একাদশ পূর্ণ করতে আরো ছয় ক্রিকেটার দলে নেয়া হচ্ছে বটে, কিন্তু মূল কাজ করতে হচ্ছে সেই পাঁচজনকে। অন্য ছয়জন খেললেও মিলছে না সামর্থ্য অনুযায়ী পারফরম্যান্স। এটিরও ব্যতিক্রম ঘটল গত শুক্রবার বিকেএসপিতে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে সাকিব-তামিমকে ছাড়াই জয় পেয়েছে টাইগাররা। অর্থাৎ পাঁচ কীর্তিমান থেকে দু’জন বাদেও আস্থা রাখার সময় এসেছে।

বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের কথায়, ‘আমার কাছে জুনিয়র-সিনিয়র শব্দটিই পছন্দ হয় না। কারণ আমার কাছে মনে হয়, যারা দলে আছে, তারা সবাই খেলার জন্য সামর্থ্যবান। তা না হলে কেউ থাকত না। এখানে সিনিয়রের বেশি দায়িত্ব, জুনিয়রের কম দায়িত্ব- এমন কোনো বিষয় নেই। সবার একটা দায়িত্ব থাকে কিভাবে দলের হয়ে ম্যাচটি জেতাতে পারবে। সবাই সেই চেষ্টাই করে থাকে। কোনো দিন দু-তিনজন ভালো খেলবে। কোনো দিন চার-পাঁচজন ভালো করবে। একটি ম্যাচে ১১ জনের ভালো খেলা খুবই কঠিন। আর যে দিন সেটি খেলতে পারে সে দিন বাংলাদেশ সব ম্যাচ জিতবে।’

আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। দুপুর আড়াইটায় মিরপুর স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। ঘরের মাঠে এ সিরিজে দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে সাকিবকে। তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হলেও সাকিবের বিশ্বাস, দলের কেউই জিম্বাবুয়েকে হালকাভাবে নিচ্ছে না।

‘আমার যখন অভিষেক হয়েছিল, তখন আমরা জিম্বাবুয়ের সাথে হারতাম। আর এখন ওদের হারাই। তবে আমি এখনো মনে করি, ওদেরকে হালকাভাবে নেয়ার কিছু নেই। ওদেরও সামর্থ্য আছে। আমরা যদি মিসটেক করি সেটিকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচ জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমার মনে হয়, ওদেরকে কেউ হালকাভাবে নিচ্ছে না এবং নেবেও না।’

সাকিব আরো মনে করেন, জিম্বাবুইয়ানদের হালকাভাবে না নিলেও খেলার মধ্যে ভুল হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে সেসব ভুল থেকেও ম্যাচে ফেরার সামর্থ্য রয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। জাতীয় দলের এ তারকা ক্রিকেটার বলেন, ‘ভুল হবে এটি স্বাভাবিক। সেটিও ওভারকাম করা সম্ভব। ম্যাচের ভেতরে কিছু কিছু ভুল থেকেও ওভারকাম করা সম্ভব। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে, এ রকম সামর্থ্য আমাদের খেলোয়াড়দের আছে। তারা ওই ভুলগুলো ওভারকাম করে কামব্যাক করতে পারবে।’

বর্তমানে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম সাকিব-তামিমের ইনজুরি। তার পরও আশার খবর হলো, দু’জনের অবস্থাই উন্নতির দিকে। তবে কবে নাগাদ মাঠে ফিরতে পারবেন, এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যই নেই সাকিবের কাছে, ‘এখন আসলে কোনো আপডেট দিতে পারছি না। ইনফেকশন বর্তমানে নেই। এক-দেড় মাস যাওয়ার পরই বোঝা যাবে পরবর্তী অবস্থা। তবে এটি বলতে পারি, আগের চেয়ে ভালো অবস্থা। এখন পর্যন্ত সব কিছু ইতিবাচক। কিছুটা সময় তো লাগতেই পারে।’

সর্বশেষ