ত্রাণের দাবিতে মটর শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

সংবাদ সারাক্ষণ
সম্পাদনাঃ ০১ মে ২০২০ - ০৮:৪৫:৩৬ পিএম

ত্রাণের দাবিতে আবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছে পরিবহন শ্রমিকরা। পরিবহন শ্রমিকরা এবার বিক্ষোভ করেছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ে। শুক্রবার দুপুরে বিক্ষুব্ধ মটর শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এদিকে সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে টহলে থাকা সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মটর শ্রমিকদের ত্রাণ দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনে পরিবহন বন্ধ থাকায় তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তারা সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোনো প্রকার ত্রাণ সহায়তা পাননি। এতে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ত্রাণের দাবিতে তারা বাধ্য হয়েই মহাসড়কে নেমেছেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির আগে মালিক সমিতি কর্তৃক শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের নামে চাঁদা নেওয়া হয়। আজকের এই দুর্দিনে সংগঠন থেকে কোন ধরণের সহায়তা তারা পাননি। এর আগে ভোটার আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তারা কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি। মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে টহলে থাকা সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মটর শ্রমিকদের ত্রাণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়ন (বি-২৩০২) এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুদ রানা এবং সিকিম আলীর নের্তৃত্বে শ্রমিকরা এতে অংশ নেয় বলে জানিয়েছে শ্রমিকরা। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেন এস এম মাসুদ রানা। তিনি বলেন, মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন পরিস্থিতিতে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে পরিবহণ শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তাদের খাদ্য ও অর্থ সহায়তা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে গত ২০ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি।

নিজে অসুস্থ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা কাউকে সড়ক অবরোধ করতে বলিনি। সড়ক অবরোধের বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। যদিও অবরোধে অংশ নেয়া অনেক শ্রমিকই বলেছেন মাসুদ রানা ও সিকিম আলী নামে দুই শ্রমিক নেতা তাদেরকে এখানে নিয়ে এসেছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক বলেন, ত্রাণের দাবিতে মটর শ্রমিকেরা শিমরাইল মহাসড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছিল। তারা দাবি করেছে, কোনো ত্রাণ তারা পয়নি। পরে তাদেরকে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঘটনাস্থলে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সর্বশেষ