দৃশ্যটি কুষ্টিয়ায় এখন আলোচনায়…

সংবাদ সারাক্ষণ
সম্পাদনাঃ ০১ মে ২০২০ - ০৩:৪৮:১৯ পিএম

কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডে প্রতিদিনের মতো অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করছিলেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের নেতা।  এ সময় তার কাছে ছুটে এলো এক ছিন্নমূল শিশু।

ছাত্রনেতা তাকে পরম আদরে জড়িয়ে ধরলেন এবং ইফতারের প্যাকেট দিলেন। বুধবারের (২৯ এপ্রিল) এই দৃশ্যটি এখন একদিকে কুষ্টিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল, অন্যদিকে কুষ্টিয়া শহরে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

রমজানের শুরু থেকেই কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ আহমেদ প্রতিদিন কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডে অসহায় মানুষদের ইফতার বিতরণ করছেন । বুধবার ইফতার বিতরণকালে ছোট্ট শিশুটি তা নিতে দৌড়ে তার কাছে আসে। শিশুটিকে তিনি আগলে নেন। আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরেন। হাতে তুলে দেন ইফতারের প্যাকেট। দৃশ্যটি এখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দৃশ্যটি অনেকেরই হৃদয়স্পর্শ করেছে।

করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি নিজের সামর্থ্যের মধ্যে যতটুকু পারছেন করে রমজানে সহায়তা করছেন এই ছাত্রনেতা। ইফতার সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি রান্না করা খাবার তুলে দিচ্ছেন অসহায় মানুষের মাঝে। তার এমন কর্মকাণ্ড নিজ  দলের বাইরের লোকের কাছেও কাছেও ইতিবাচক মনে হয়েছে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে তারই প্রতিচিত্র।

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের একাধিকবার সভাপতির দায়িত্বে থাকা জনপ্রিয় নেতা বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা মাযহারুল আলম সুমন ফেসবুকে এমন দৃশ্যে উল্লেখ করেন, ‘আমি শুরু করেছিলাম আর তুমি শেষ করবে।’

শুভ আহমেদ নামে একজন লিখেন- ‘সাদ আহমেদ’র মত ছাত্রলীগ নেতার কর্মকাণ্ডে অভিভূত হই। তার ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড আমাদের বিবেককে জাগ্রত করেছে।’

সজিব হাসান নামে একজন লিখেছেন- ‌‘মানবতার এক উজ্জল নক্ষত্র সাদ আহমেদ।’

রাজিব সরকার অভি লিখেছেন- ‘জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে এভাবেই এগিয়ে যান তেজদীপ্ত চরণে।’

সানজিদ হাসান অন্তনু লিখেছেন- ‘ভাই আপনাকে দেখে অনেক কিছু শেখার আছে।’

এমন দৃশ্য কখনোই ভুলবার মতো নয় বলে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘কারো বাহবা পেতে মানুষের কল্যাণে কাজ করছিনা। একজন মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে, সেই মানবিক মূল্যবোধ থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি মাত্র।’

তবে ইফতার বিতরণকালে দৌড়ে আসা ৫/৬ বছরের ছোট্ট শিশুটি তাকে খুব নাড়া দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিশুটি আমাকে বলে আমার ক্ষুধা লেগেছে আমাকে একটি প্যাকেট দিবেন? যখন ওই শিশুটির হাতে একটি প্যাকেট তুলে দিলাম তখন শিশুটির অনুভূতি দেখে আমার চোখে পানি চলে আসে। আমি শিশুটিকে জড়িয়ে ধরে বলি তোর কয়টা প্যাকেট লাগবে আমি দিব। এই বলে শিশুটিকে জড়িয়ে ধরি।’

সাদ আহমেদ বলেন, ‘আমি ছাত্র রাজনীতি করতে এসেছি নিজেকে জাহির করতে নয়। বড় হয়েছি বাবা-মায়ের আদর্শ নিয়ে। তবে রাজনীতিতে আমার আদর্শ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। তারা আমাকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। শিখিয়েছেন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নয় ইতিবাচক কর্মকান্ডের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে প্রশংসিত হতে হবে। এমন চিন্তা চেতনা থেকে আমার এগিয়ে চলা।’

সর্বশেষ