ফিরাউন ও তার জাদুকরদের কথা

সংবাদ সারাক্ষণ
সম্পাদনাঃ ২২ এপ্রিল ২০১৮ - ০৪:২৭:৪২ এএম

পৃথিবীর জঘন্য পাপীদের সেরা হলো ফিরাউন। হজরত জিবরাইল (আ.) মহানবী (সা.)-কে বলেন, ‘ইবলিসের অনুসারীদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত হলো ফিরাউন। ফলে তার ডুবে মরার সময় যখন সে ঈমান আনতে শুরু করে, তখন আমি তার মুখে মাটি নিক্ষেপ করেছি, যাতে পূর্ণ কালেমা বলতে না পারে এবং আল্লাহর করুণা তার প্রতি না হয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩১০৮)

ফিরাউন ছিল আমালিকা বংশের। তার নাম ওয়ালিদ ইবনে মুসআব ইবনে রাইয়ান। কারো কারো মতে, তার নাম মুসআব ইবনে রাইয়ান। কেউ কেউ বলেন, তার নাম রাইয়ান; ইবনে কাসিরের মতে, তার উপাধি আবু মুররা, কারো মতে তার নাম রামাসিস, কারো মতে তার নাম মুনফাতাহ্। ফিরাউন তৎকালীন মিসরীয় রাজাদের উপাধি। তার ছিল সুদক্ষ একদল জাদুকর। ফিরাউনের জাদুকর তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। প্রথম ভাগে ছিল ১২ জন। এদের বলা হতো নকিব বা নেতা। এই ১২ জনের প্রত্যেকের অধীনে ছিল ২০ জন করে ২৪০ জন। এদের বলা হতো আরিফ বা দক্ষ। এদের প্রত্যেকের অধীনে ছিল ১০০ জন করে ২৪ হাজার। এদের প্রধান ছিল শামউন।

ইবনে জুবাইর বলেন, জাদুকরদের সংখ্যা ছিল ৯০০। তারা তিন দলে বিভক্ত ছিল। তারা হলো—১. আরিশ, ২. আল ফাইউম, ৩. আল ইসকান্দারিয়া। প্রত্যেক দলে ছিল ৩০০ করে জাদুকর। ইবনে ইসহাক বলেন, জাদুকরদের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার। কারো মতে তাদের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার। ইবনুল মুনকাদির বলেন, তাদের সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার। সে সময় মিসরের জাদু ছিল বিশ্ববিখ্যাত। তারা সাধ্যানুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে মুসা (আ.)-এর মোকাবেলায় মাঠে উপস্থিত। তাদের জাদুর উপকরণ ছিল রশি ও লাঠি। জাদুকররা যা সব সাপে রূপান্তরিত করে। (কুরতুকি,  অষ্টম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭৫)

হজরত মুসা (আ.) আল্লাহর নির্দেশে জাদুকরদের মোকাবেলায় প্রস্তুত হন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তারা বলল, হে মুসা! তুমি প্রথমে নিক্ষেপ করবে, না আমরাই প্রথম নিক্ষেপ করব। মুসা বলল, বরং তোমরাই নিক্ষেপ করো। অতঃপর তাদের জাদুলীলার প্রভাবে তাদের রজ্জু ও লাঠিগুলো বিচরণ করছে বলে অনুমিত হলো।’ (সুরা : ত্বা-হা, আয়াত : ৬৫-৬৬)।

মহান আল্লাহ আরো ইরশাদ করেন, ‘আমি মুসার প্রতি ওহি পাঠালাম, তুমিও তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো। সহসা তা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলো গ্রাস করতে লাগল। ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তারা যা করেছিল, তা মিথ্যা প্রতিপন্ন হলো। অতঃপর সেখানে তারা পরাভূত হলো ও লাঞ্ছিত হলো। এবং জাদুকররা সিজদাবনত হলো। তারা বলল, আমরা ঈমান আনলাম বিশ্বপ্রতিপালকের  প্রতি, যিনি মুসা ও হারুনের রব।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১১৭-১২২)

ফিরাউন যখন দেখল যে জাদুকররা সবাই মুসলমান হয়ে গেছে, তখন সে ক্রোধে অন্ধ হয়ে বলল, ‘আমি তোমাদের আদেশ করার আগেই তোমরা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে, অবশ্যই সে তোমাদের প্রধানতম, যে তোমাদের জাদু শিক্ষা দিয়েছে। অতএব, নিশ্চয়ই তোমাদের খর্জুরকাণ্ডে শূলবিদ্ধ করব, আর তখন তোমরা অবগত হবে যে আমাদের মধ্যে কার শাস্তি কঠোরতম ও দীর্ঘস্থায়ী। (সুরা : ত্বা-হা, আয়াত : ৭১)

জাদুকররা জবাবে বলল, ‘তুমি যা করতে চাও, করো। তুমি তো শুধু এ পার্থিবজীবনের ওপর কর্তৃত্ব করতে পারো। আমরা আমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি, যাতে তিনি আমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেন…।’ (সুরা : ত্বা-হা, আয়াত : ৭২-৭৩)

ইবনে ওহাব বলেন, মুসা (আ.)-এর লাঠির সাপের ভয়ে ২৫ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল এবং ফিরাউন মুসা (আ.)-এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছিল। (কুরতুবি, অষ্টম খণ্ড, পৃষ্ঠা : ২৭৫)

লেখক : শিক্ষক, মাদরাসাতুল মদিনা, নবাবপুর, ঢাকা।

সর্বশেষ