রাস্তাঘাটে কমেছে কড়াকড়ি, সড়কে বেড়েছে যানবাহন

সংবাদ সারাক্ষণ
সম্পাদনাঃ ০৪ মে ২০২০ - ০৫:২৬:২৮ এএম

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ নিরাপত্তায় পুলিশের টহল ও নজরদারি কমে এসেছে। গতকাল রবিবার রাজধানী কয়েকটি এলাকায় ঘুরে রাস্তায় চলাচল নিয়ন্ত্রণে শিথিলতা আগের চেয়ে বেশি দেখা গেছে। কমেছে তল্লাশিচৌকি। বাজারগুলোতে কমেছে টহল। তবে প্রধান সড়কের কাছে বেশির ভাগ বাজারই নিয়ম মেনে বিকেল ৪টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দেকানপাটে এবং ফুটপাতে ?ভ্রাম্যমাণ ইফতারি পর্যন্ত বেচাকেনা হতে দেখা গেছে।

রাজধানীর খিলক্ষেত, ইসিবি মোড়, মাটিকাটা, কালশী, কুড়িল, নতুনবাজার, উত্তর বাড্ডা এলাকায় গতকাল পুলিশের মাত্র দুটি চেকপোস্ট দেখা গেছে। তবে এসব তল্লাশিতে ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে বের হওয়ার কারণ জানতে চাইতে দেখা যায়নি। নতুনবাজারের মাদানি এভিনিউয়ে অটোরিকশাচালক লোকমান হোসেন বলেন, ‘আজ লোকজন বেশি বের হয়েছে। আমি সব সময়ই গাড়ি চালাচ্ছি। পেটের টানে রাস্তায় নামছি। আগে পুলিশ ধরলেও, দুই দিন কিছু বলে না।’

খিলক্ষেত থানার ওসি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, সামাজিক দূরত্ব ও সময় মেনে দোকান চালাতে সব বিক্রেতাকে বলা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সময় মেনে সবাই যেন জরুরি কাজ সারতে পারে সেদিকেও পুলিশ নজর রাখছে।

এদিকে সরেজমিনে বাড্ডা, রমনা, তেজগাঁও ও গুলশান এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মানুষ সামাজিক দূরত্ব মেনে অনেকটাই স্বাভাবিকভাবে তাদের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সড়কে প্রচুর যানবাহন চলাচল করছে। সেই সঙ্গে সড়ক লাগোয়া ফুটপাতে এখনো অনেক অভাবী মানুষ ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছে।

চেকপোস্টে পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন।

এ ছাড়া অঘোষিত লকডাউনের মধ্যেই সড়কে বেড়েছে মানুষের চলাচল। গতকাল রবিবার পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের সংখ্যা বেশি দেখা গেছে।

রাজধানীর আজিমপুর ও লালবাগ এলাকার অলিগলিতে আগের চেয়ে বেড়েছে মানুষের চলাচল। সকাল থেকেই বিভিন্ন কাজে বেরিয়ে পড়ছে মানুষ। হকারদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠছে সুনসান গলিগুলো। শেখ সাহেব বাজার সড়কের এক বাসার নিচে ভ্রাম্যমাণ মুরগি বিক্রেতা সুলাইমান মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন বইয়া বইয়া খাইছি। কত দিন বইয়া খাওন যায়? আগে কাম কইরা বাড়িতে টাহা পাঠাইতাম। এহন বাড়ি থেইক্কা টাহা আনার মতো অবস্থা। কিন্তু কে দিব? সবই তো

আমার উপার্জনের টাকায় চলে। রিকশা চালান ছাইড়া এহন মুরগি বেচতাছি।’

লালবাগ কেল্লা, ঢাকেশ্বরী মন্দির, পলাশি মোড়, নীলক্ষেত, হাতিরপুল বাজার, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও গাড়ির কিছুটা জটলাও দেখা যায়। হাতিরপুল এলাকায় রাব্বি নামের এক সিএনজিচালক বলেন, ‘গাড়ি চালাইতে না পারলে খুামু কী? অনেক দিন চালাই নাই। এখন বাধ্য হয়েই নামছি। তবে মানুষ নাই। জমা-খরচ উঠাইতেই কষ্ট হয়।’

সর্বশেষ