লকডাউনে শিশুর মনোযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে? করনীয় জেনে নিন

সংবাদ সারাক্ষণ
সম্পাদনাঃ ০৪ মে ২০২০ - ১১:৫৪:২২ এএম

করোনাভাইরাসে সৃষ্ট মহামারিতে বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলে চলছে লকডাউন। এর প্রভাব পড়ছে কমবেশি সবার উপরেই। বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন করোনা মোকাবেলায় যে লকডাউন চলছে তার সব থেকে বেশি ক্ষতিকারক প্রভাব পড়বে শিশুদের উপর। আজ প্রায় ৪০ দিন ধরে বাড়ির ক্ষুদে সদস্যরা ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছে। স্কুল থেকে শুরু করে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে খেলাধুলা-করোনার কোপে সবই বাদ গেছে। আর তাই কোনও কাজেই তাদের মনোনিবেশ করানো বেশ সমস্যার হয়ে উঠছে। 

বিশেষত পড়াশোনায় তাঁদের আর কোনওভাবেই মন বসছে না। এমতাবস্থায় চরম বিপদে পড়েছেন বাবা মায়েরা। স্কুল বন্ধ থাকলেও অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে আপাতত কোনওক্রমে পড়াশোনার কাজ চালানো হচ্ছে। কিন্তু তাতেও যদি বাচ্চারা মন না দিতে পারে তাহলে যে আগামী দিনে চরম সমস্যার সৃষ্টি হবে সেই দুশ্চিন্তাতেই আপাতত রাতের ঘুম উড়েছে বাবা-মায়ের।

আর তাই ঘরোয়া উপায়ে কিভাবে বাচ্চাদের মনোযোগ বাড়ানো যায় তার জন্য দেওয়া হলো কিছু টিপস।

মনোযোগ বাড়াতে ঘাম ঝরানো জরুরি

দিনে অন্তত একটা ঘণ্টা রোজ ছোটাছুটি করতে দিন আপনার সন্তানকে। যদি রোজ খেলার জন্য একটু সময় দেওয়া হয় তাহলে ঘাম ঝরে ফলে শরীরের এনডরফিন হরমোন বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হতে থাকে। তারপর বাচ্চাকে পড়াতে বসলে অনেকটা লাভ হয়। এই হরমোন নিঃসরণের ফলে এক ঘন্টা দেড় ঘন্টা মনোযোগ ক্ষুন্ন হবে না। আর তাই এখন বাইরে বেড়ানোর যখন কোনও উপায় নেই প্রতিদিন অন্তত একবার তাঁদের বাড়ির ছাদে নিয়ে যান।

গান শেখাতে পারেন আপনার সন্তানকে

বাচ্চাকে গান শেখাতে পারেন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় ইন্সট্রুমেন্ট শেখাতে পারলে। পিয়ানো, সিন্থেসাইজার, তবলা, মাউথ অর্গান জাতীয় কিছু শেখালে আপনার সন্তানের মনঃসংযোগ বাড়বে। এখন কোনও প্রাইভেট টিউটর পা্ওয়া সম্ভব নয়। তবে অনলাইনে অনেক ভিডিও রয়েছে যা দেখে কিছুটা সময়  বাচ্চারা নাচে-গানে মেতে থাকতে পারে।

বাচ্চাকে খেলার ছলে পড়ান

জোর করবেন না। জোর করে মনোযোগ আনা যায় না। ছোট ছোট খেলা ওর সাথে খেলতে পারেন। ওকে দিয়ে কবিতা বলাতে চাইলে যেটা করতে পারেন, কবিতার দুই লাইন করে বলেই আপনি বলবেন ‘আমি ভুলে গেছি আমার মনে পড়ছে না’, দেখবেন ঠিক হুড়মুড় করে বলে দিচ্ছে বাকি লাইনগুলো।

গল্প বলুন ঘুমোবার আগে

শোয়ার আগে কিছুটা সময় গল্প বলার জন্য রাখুন। পারলে ‘এন্যাক্ট’ করে গল্প বলুন, ওদের আগ্রহ বাড়বে। ওদের সব প্রশ্নের উত্তর কিন্তু আপনাকে দিতে হবে বিরক্ত হলে চলবে না।

বাবা মায়েদের যা করণীয়

বাবা-মায়েদের কিন্তু একটা বড় দায়িত্ব থেকে যায় বাচ্চাদের ‘কনসেনট্রেশন’ বাড়ানোর জন্য।  বাবা-মায়েরা কখনো বাচ্চাদের জোর করে ধরে পড়ানোর চেষ্টা করবেন না। সন্তানের বয়স অনুযায়ী তার মনোযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করুন। ৪-৫  বছরের বাচ্চার যে মনোযোগ থাকবে ১০ বছরের বাচ্চার তার চেয়ে বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আপনার সন্তান ছোট হলে তার থেকে খুব বেশি মনোযোগ প্রত্যাশা করবেন না।

ইলেকট্রনিক গ্যাজেট থেকে দূরে রাখুন

বাচ্চাকে ইলেকট্রনিক গ্যাজেট মোবাইল ল্যাপটপ এসব থেকে যত দূরে রাখবেন ততই ভালো। কারণ ছোট বয়সে মানুষের মস্তিষ্কে এগুলোর প্রভাব পড়ে মনোসংযোগ নষ্ট হয়। নিজেরা বাড়িতে সারাক্ষণ টিভি দেখবেন না তাহলে ওদের অভ্যাস খারাপ হয়ে যাবে।

সর্বশেষ